শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :

জাতিসংঘের মানবতাবিরোধী তদন্তে সরকারের পূর্ণ সহযোগিতা প্রয়োজন

মাতৃভূমি সংবাদ 

নিজেস্ব প্রতিবেদক

জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের গণহত্যায় জাতিসংঘের মানবতাবিরোধী তদন্তে সরকারের পূর্ণ সহযোগিতা করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন নেত্রনিউজের প্রধান সম্পাদক তাসনিম খলিল।বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে মায়ের ডাক কর্তৃক ‘জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ-বিচার প্রক্রিয়া : আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি। সভায় গুম হওয়া পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।তাসনিম খলিল বলেন, গতকাল জাতিসংঘ একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, যাকে আমরা সাধুবাদ জানাতে চাই। তাদের রিপোর্টের মূলকথা ছিল, জুলাই অভ্যুত্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর সংঘবদ্ধভাবে যে আক্রমন চালানো হয়েছে, তা যে মানবতাবিরোধী অপরাধ, সেটা প্রমাণিত হয়েছে। তবে জাতিসংঘ বলছে, মানবতাবিরোধী অপরাধ আরো ভালোভাবে প্রমাণের জন্য অধিক তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। আর এটা প্রমাণিত হয়ে গেলে তখন তা আর বাংলাদেশের বিষয় থাকবে না, এটি আন্তর্জাতিক একটি বিষয় হয়ে যাবে। এতেকরে যারা অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের আইনের আওতায় নিয়ে এসে বিচারকাজ কাজ ব্যাপারটি উঠে আসবে।তিনি আরও বলেন, আমরা চাই বাংলাদেশ সরকার জাতিসংঘের এই তদন্তে যা সহযোগিতা প্রয়োজন, তা সরবরাহ করুক। আমরা বিশ্বাস করি বাংলাদেশের যারা তদন্তকারী আছেন, তাদের সদিচ্ছার কোনো অভাব নেই। কিন্তু ক্যাপাসিটির একটি গুরুতর ঘাটতি রয়েছে, কারণ ফরেনসিক আর্কিটেকচার নিয়ে আমাদের কোনো স্পেশালিস্ট নেই। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহায়তা আমরা চাইতেই পারি। এখানে জাতিসংঘ আমাদের হেল্প করতে পারে এবং সরকারের পক্ষ থেকেই উচিত এই এপ্রোচটা করা।তাসনিম খলিল আরো বলেন, পাশাপাশি যে ব্যক্তিরা বাংলাদেশ থেকে প্রচুর টাকা বিদেশে পাচার করেছেন, সে টাকা উদ্ধারেও সরকারের উচিত জাতিসংঘের সহায়তা নেওয়া।এছাড়া আরো কি কি পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা মানবাধিকার সংগঠনগুলো একসঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জনগণের কাছ থেকে একটি দাবি আসা। জনগণ বা ভুক্তভোগী পরিবার যদি মনে করেন যে সার্বিক বিষয়ে জাতিসংঘের সহায়তা চাওয়া হোক, তাহলে বর্তমান সরকার সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা বলেন, পৃথিবীতে মানবতার বিরোধী সবচেয়ে বড় অপরাধ হচ্ছে গুম। কারণ গুম করা হলে হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তিটির কোনো চিহ্নই থাকে না। পরিবারের কাছে কেবল তার স্মৃতিটুকুই থাকে। তার আর কোনো অস্তিত্ব থাকে না। যারা ফিরে আসেনি তারা হয়তো আর্তনাদ করে বলেন আমাকে ছেড়ে দেন আমি আর কিছুই করবো না, রাজনীতি করবো না। আমার ঘরে ছোট সন্তান আছে, বৃদ্ধ বাবা-মা আছে, আমাকে ছেড়ে দেন। কিন্তু ঘাতকদের কানে সেই আর্তনাদ পৌঁছায় না। যারা এই গুমের মতো ঘটনা ঘটিয়েছে আমরা তাদের সুষ্ঠু বিচার চাই।বক্তব্যে গুম হওয়া সাংবাদিকের ছেলে মনোরম পলক বলেন, আমার বাবাকে গুমের পর জেলে রাখা হয়। কিন্তু জামিন দেওয়া হয়নি। গুমের সেলগুলো এখনো ভাঙা হচ্ছে, রং করা হচ্ছে। তার মানে এর পেছনে এখনো টাকা খরচ করা হচ্ছে। সেটা কে করছে?  আরেক বক্তব্যে গুম হওয়া পরিবারের সদস্য লামিয়া ইসলাম মীম বলেন, আমার কিচ্ছু লাগবে না। শুধু আমার বাবার হাতটা ধরে হাঁটতে চাই। আমরা শুনেছি আমার বাবা আয়নাঘরে আছে। কই? আমরাতো আয়নাঘরে দেখলাম, বাবাকে তো পেলাম না।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Categories

© All rights reserved © 2023 MatrivumiSongbad
Design & Developed BY N Host BD